হজরত ঈসা (আ.) আল্লাহর প্রেরিত একজন নবী ও রাসুল। বনী ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত নবীদের ধারায় তিনি ছিলেন অন্যতম শেষ নবী। আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ নিদর্শন হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। পিতৃপরিচয় ছাড়াই অলৌকিকভাবে তার জন্ম হয় হজরত মরিয়ম (আ.)-এর গর্ভে। শৈশবেই আল্লাহর ইচ্ছায় তিনি কথা বলেছিলেন।

অলৌকিকভাবে জন্ম নেওয়ায় হজরত মরিয়ম (আ.)-এর চরিত্র নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিল। তখন আল্লাহর নির্দেশে শিশু ঈসা (আ.) তার মায়ের পবিত্রতার পক্ষে কথা বলেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে—

‘নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং আমাকে নবী করেছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন, যতদিন জীবিত থাকি ততদিন নামাজ ও জাকাত আদায় করতে। আর আমাকে আমার মায়ের প্রতি অনুগত করেছেন এবং তিনি আমাকে দাম্ভিক, হতভাগ্য করেননি। আমার প্রতি শান্তি—যেদিন আমি জন্ম লাভ করেছি, যেদিন আমার মৃত্যু হবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হব।’
—সূরা মারইয়াম, আয়াত ৩০-৩৪

পরিণত বয়সে আল্লাহ তায়ালা হজরত ঈসা (আ.)-কে নবুয়ত দান করেন। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর পথে চলার আহ্বান জানান। আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন মুজিজাও দেওয়া হয়েছিল।

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় পর আল্লাহ তায়ালা হজরত ঈসা (আ.)-কে আসমানে তুলে নেন। কিয়ামতের আগে তিনি আবার পৃথিবীতে আগমন করবেন। হাদিসে তার এই আগমনকে কিয়ামতের অন্যতম বড় আলামত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

কিয়ামতের দশটি বড় আলামত

হজরত হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণিত, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সাহাবিদের কাছে এসে তাদের কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করতে শুনলেন। তখন তিনি বলেন, দশটি আলামত না দেখা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না।

আলামতগুলো হলো—

১. ধোঁয়া প্রকাশ পাওয়া।
২. দাজ্জালের আগমন।
৩. দাব্বাতুল আরদের আবির্ভাব।
৪. পশ্চিম আকাশে সূর্যোদয়।
৫. ঈসা ইবনে মারইয়ামের আগমন।
৬. ইয়াজুজ-মাজুজের আবির্ভাব।
৭. পূর্বাঞ্চলে ভূমিধস।
৮. পশ্চিমাঞ্চলে ভূমিধস।
৯. আরব উপদ্বীপে ভূমিধস।
১০. ইয়ামান থেকে আগুনের আবির্ভাব, যা মানুষকে সিরিয়ার দিকে সমবেত করবে।

—সহিহ মুসলিম, কিতাবুল ফিতান

হাদিসে ঈসা (আ.)-কে চেনার বর্ণনা

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমন সম্পর্কে তার শারীরিক বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা দিয়েছেন।

হাদিসে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ও ঈসা (আ.)-এর মধ্যে আর কোনো নবী নেই। তিনি পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। তাকে দেখে চেনার বিষয়ে হাদিসে তার মাঝারি উচ্চতা, লালচে-সাদাটে বর্ণ এবং মাথার চুলের এমন বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, যেন চুল ভেজা না থাকলেও তা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছে।

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ঈসা (আ.) অবতরণের পর ক্রুশ ভেঙে দেবেন, শূকর হত্যা করবেন এবং জিজিয়া রহিত করবেন। তিনি দাজ্জালকে হত্যা করবেন এবং পৃথিবীতে একটি নির্দিষ্ট সময় অবস্থান করবেন। পরে তার মৃত্যু হবে এবং মুসলিমরা তার জানাজা পড়বেন।

—সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৩২৪

ইসলামী আকিদা অনুযায়ী, হজরত ঈসা (আ.)-এর পুনরাগমন কিয়ামতের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি। তার আগমন, দাজ্জালের আবির্ভাব এবং ইয়াজুজ-মাজুজসহ শেষ যুগের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে কোরআন ও সহিহ হাদিসে বর্ণনা রয়েছে।