শাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিতে শেহবাজ শরিফকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে দেখা যায়। তবে ছবিটি এমনভাবে ক্রপ করা হয়েছে, যাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ কয়েকজন বিশ্বনেতা বাদ পড়ে যান।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিটি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনের একটি অধিবেশনের আগে তোলা হয়েছিল। মূল ছবিতে সদস্য দেশগুলোর নেতারা একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একই অনুষ্ঠানের মূল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মূল ছবিতে দেখা যায়, ডান দিক থেকে চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন শেহবাজ শরিফ। পাকিস্তানের প্রকাশিত ছবিতে তাকে কেন্দ্রে দেখানোর জন্য বাঁ পাশের পাঁচজন বিশ্বনেতাকে ক্রপ করে বাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রকাশিত ছবিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিওয়েভসহ অন্য নেতাদের দেখা যায়।

২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা এবং সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ১০টি সদস্য দেশ, ১৫টি অংশীদার দেশ ও দুটি পর্যবেক্ষক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও তিনি বক্তব্য দেন।

মোদি এসসিওর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ—নিরাপত্তা, সংযোগ ও সুযোগ—নিয়ে আরও কার্যকর সহযোগিতার ওপর জোর দেন। শুধু পরিকল্পনা বা লক্ষ্য নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিমাপযোগ্য ফলাফলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

২০০১ সালে চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান ও উজবেকিস্তানকে নিয়ে এসসিও প্রতিষ্ঠিত হয়। ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্য হয়। পরে ২০২৩ সালে ইরান এবং ২০২৪ সালে বেলারুশ পূর্ণ সদস্য হিসেবে সংগঠনটিতে যুক্ত হয়।

সূত্র: এনডিটিভি এনডিটিভির প্রতিবেদন