ফ্রন্টলাইন বাংলাদেশ | ইসলামিক ডেস্ক

দুনিয়ার জীবনে মানুষকে নানা ধরনের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। কখনো অসুস্থতা, কখনো জীবনের সংকট, আবার কখনো সম্পদ ও প্রিয়জন হারানোর মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা করেন। একজন মুমিনের জন্য এসব পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দেখানো পথ অনুসরণ করাই সফলতার পথ।

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষের জীবনে কিছু অদৃশ্য ক্ষতির বিষয়ও রয়েছে। এর মধ্যে বদনজর ও জাদুর কথা হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। হিংসা-ঈর্ষা থেকে সৃষ্ট বদনজর যেমন ক্ষতির কারণ হতে পারে, তেমনি জাদু করাও ইসলামে গুরুতরভাবে নিষিদ্ধ।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বদনজর লাগা সত্য।’ (আবু দাউদ: ৩৮৭৯)

অন্যদিকে, জাদুকে ধ্বংসকারী কাজগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সহিহ বুখারির হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসকারী বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। এর মধ্যে জাদুও রয়েছে। (বুখারি: ২৫৭৮)

তবে বদনজর বা জাদুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পেতে হাদিসে বিভিন্ন দোয়া ও আমলের কথা এসেছে।

বদনজর ও জাদু থেকে সুরক্ষায় ৫ আমল

১. সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়া

উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়বে, কোনো কিছুই তার অনিষ্ট করতে পারবে না।

দোয়া:
بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআস্‌মিহি শাইয়্যুন ফিল আরদি ওয়া লা ফিস-সামায়ি, ওয়া হুয়াস-সামিউল আলিম।

অর্থ:
আমি আল্লাহর নামে আশ্রয় নিচ্ছি—যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
(তিরমিজি: ৩৩৮৮)

২. সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের দোয়া

সকাল-সন্ধ্যায় এই দোয়াটিও পড়া যায়—

দোয়া:
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ:
আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

অর্থ:
আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
(তিরমিজি: ৩৪৩৭)

৩. ক্ষতি ও হিংসুকের নজর থেকে আরোগ্যের দোয়া

হাদিসে বর্ণিত এই দোয়াটি রুকইয়ার ক্ষেত্রে পড়া হয়েছে—

দোয়া:
بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ مِنْ كُلِّ شَىْءٍ يُؤْذِيكَ مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ اللَّهُ يَشْفِيكَ بِاسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ

উচ্চারণ:
বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিন কুল্লি শাইয়্যিন ইউ’জিকা, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফিকা। বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ:
আল্লাহর নামে আমি তোমার জন্য রুকইয়া করছি—যে কোনো কষ্টদায়ক বিষয় থেকে, প্রত্যেক আত্মা ও ঈর্ষাপরায়ণ চোখের অনিষ্ট থেকে। আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করুন।
(মুসলিম: ২১৮৬)

৪. নিয়মিত সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ

ইসলামি স্কলারদের পরামর্শ অনুযায়ী সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস—প্রতিটি তিনবার করে পাঠ করা যেতে পারে। এসব সুরার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়।

৫. সুরা ফাতেহা পাঠ

সুরা ফাতেহাকে শিফার সুরা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। বদনজর বা অন্য কোনো অদৃশ্য ক্ষতির আশঙ্কায় আল্লাহর কাছে আরোগ্য ও সুরক্ষা চেয়ে সুরা ফাতেহা পাঠ করা যেতে পারে।

সবশেষে মনে রাখা জরুরি, বিপদ-আপদে একজন মুমিনের প্রথম আশ্রয় আল্লাহ। দোয়া ও কোরআনের আমলের পাশাপাশি বাস্তব কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও জরুরি। ইসলামে আল্লাহর ওপর ভরসার পাশাপাশি বৈধ ও বাস্তব উপায় অবলম্বনেরও গুরুত্ব রয়েছে।